
গোবিপ্রবির আইন বিভাগে সাফল্যের নতুন দিগন্ত: বার কাউন্সিলের মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৮১ শিক্ষার্থী
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) এর আইন বিভাগে এসেছে একটি গৌরবময় অর্জন। বাংলাদেশ বার কাউন্সিল-এর আইনজীবী তালিকাভুক্তির মৌখিক পরীক্ষায় এই বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৮১ জন শিক্ষার্থী সফলতা অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, চারটি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা এই সাফল্যের সাক্ষর রেখেছেন।
শিক্ষকদের প্রচেষ্টা ও শিক্ষার্থীদের মেধা: নবীন বিভাগ হিসেবে শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টা এবং শিক্ষার্থীদের মেধা ও hard work এর সমন্বয়ে এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে বিভাগীয় সূত্র।
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
বার কাউন্সিল: চলতি বছরে গোবিপ্রবি থেকে ৮১ জন শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট হিসেবে তালিকাভুক্তির যোগ্যতা অর্জন করেছেন।
বিজেএস (জুডিশিয়ারি): এ পর্যন্ত এই বিভাগ থেকে ৩ জন শিক্ষার্থী সহকারী জজ হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
সারাদেশে ফলাফল: এবছর সারা দেশ থেকে মোট ৮,৫৯৯ জন প্রার্থী মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
সাফল্যের প্রতিফলন: ১৭তম বিজেএস-এ সুপারিশপ্রাপ্ত এবং বর্তমানে ভোলায় কর্মরত সিভিল জজ সাদিকুর রহমান রোমান এই অর্জনে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের বিভাগটি নবীন হলেও ইতোমধ্যে ৩ জন বিচারক ও প্রায় ১০০ জন আইনজীবী উপহার দিয়েছে। আমি নিজেও জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি এবার এনরোলমেন্ট পেয়েছি। আমার বিশ্বাস, নতুন এই আইনজীবীরা ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
মোঃ রিয়াদ আহমেদ: ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও নবীন আইনজীবী বলেন, “শুধু গাইড বই বা নোটের ওপর নির্ভর না করে ‘বেয়ার অ্যাক্ট’ পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে আসাই হওয়া উচিত সবার উদ্দেশ্য।”
ডিন ও বিভাগীয় প্রধান: আইন অনুষদের সহযোগী অধ্যাপক মানসুরা খানম বলেন, “বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করে বর্তমানে আমাদের ১০টি ব্যাচ চলমান। এই অসাধারণ সাফল্য আমাদের জন্য গর্বের বিষয় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য একটি বড় অর্জন।”
ড. রাজিউর রহমানের অভিনন্দন: সহযোগী অধ্যাপক ড. রাজিউর রহমান শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা ইতোমধ্যে জুডিশিয়ারি, উচ্চশিক্ষা ও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সুনামের সাথে কাজ করছে। এই সাফল্য বর্তমান শিক্ষার্থীদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”
মৌখিক পরীক্ষার প্রভাব: উল্লেখ্য, মৌখিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা এখন দেশের যেকোনো আদালত ও ট্রাইব্যুনালে আইন পেশায় কাজ করার যোগ্যতা অর্জন করেছেন। তবে পেশাগত কার্যক্রম শুরু করতে হলে আগামী ছয় মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করতে হবে।
মন্তব্য করুন
সকল মন্তব্য (0)
এখনও কোনো মন্তব্য আসেনি। প্রথম মন্তব্যটি করুন।